
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী Tel Aviv-এ হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাফায়েল পিনাইনা বলেন, “নেতানিয়াহু ভেতর থেকে আমাদের সমাজকে দুর্বল করে দিচ্ছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।” তিনি আরও জানান, এসব কারণেই তিনি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৭ অক্টোবরের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। তাদের মতে, ওই দিনের ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
আরেক অংশগ্রহণকারী লি হফম্যান-আজিভ বলেন, “আমি এখানে এসেছি মূলত সেইসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, যারা ৭ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী সংঘাতে প্রিয়জন হারিয়েছেন।” তিনি বর্তমান সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোরও সমালোচনা করেন।
হাইম ট্রিভ্যাক্স নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, “লেবানন ও ইরানে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল ভুল করেছে। নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নতুন নেতৃত্বের দাবি জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে জনমনে ক্ষোভ জমে উঠেছে।
বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত না হলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এদিকে এখন পর্যন্ত Benjamin Netanyahu বা তার সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, তেল আবিবে এই বিক্ষোভ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে।