
হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইউকেএমটিও জানায়, ঘটনাটিতে দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, যেগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা হুঁশিয়ারি ছাড়াই গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত গুলির কারণে জাহাজটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে।
এর আগে সাময়িক সময়ের জন্য আকাশসীমা ও নৌপথ কিছুটা খুলে দেওয়া হলেও পরে আবারও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয় ইরান। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে ‘জলদস্যুতার’ মতো আচরণ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবারও কঠোরভাবে সামরিক বাহিনীর হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানগামী ও ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর জন্য পূর্ণ নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্যাংকারে গুলির এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। তবে ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ ও দায়ী পক্ষ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।