
দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এতে নারীর কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, সরকার জেলা ও উপজেলাভিত্তিক হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে ধাপে ধাপে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে। পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যাতে জনগণ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়।
হামের টিকা নিয়ে অতীতের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এটিকে ‘জীবনবিনাশী অপরাধ’ উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এছাড়া চিকিৎসকদের ভূমিকার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এই ঘোষণা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পাবে।