
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা আটজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করে এবং ধ্বংসাবশেষ ও মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে মেলাউই এলাকার একটি বাগান অঞ্চল থেকে হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের মাত্র পাঁচ মিনিট পরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে শুরু থেকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল Airbus H130 মডেলের। এটি সাধারণত স্বল্প দূরত্বের যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই এর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
মোহাম্মদ শাফি আরও জানান, যে এলাকায় হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, সেটি ছিল ঘন জঙ্গল এবং খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ডে ঘেরা। ফলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা এবং দ্রুত সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ খুঁজে পায় উদ্ধারকারী দল। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হেলিকপ্টারটির লেজের অংশ।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ছয়জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্যসহ মোট আটজনই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে হেলিকপ্টারের বাকি অংশ এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা যায়।
উদ্ধারকাজে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে স্থলপথে পৌঁছাতে সময় লাগছে। ঘন বন, পাহাড়ি পথ এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অভিযান আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন। আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্যান্য কোনো কারণ এই দুর্ঘটনার পেছনে থাকতে পারে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি পাম তেল বাগান এলাকায় অবস্থিত, যা Citra Mahkota নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল Matthew Air Nusantara।
এই দুর্ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটি বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জ হওয়ায় আকাশপথে যোগাযোগের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে থাকে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম কালিমান্তানের এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো ধ্বংসাবশেষ ও মরদেহ উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।