
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা Hafizuddin Ahmed বলেছেন, বর্তমানে মানুষের মধ্যে পড়াশোনা ও খেলাধুলার তুলনায় রাজনীতির প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। তার মতে, এই রাজনৈতিক সচেতনতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোলা সফরের আগে যাত্রাবিরতির সময় বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনেও রাজনৈতিক সচেতনতা ও আগ্রহ বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যখন দেশে স্বৈরশাসন বা দমনমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন ছাত্র-যুবকরাই রাজপথে নেমে এসে জনগণের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির একটি ইতিবাচক দিক হলো এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
স্পিকার মনে করেন, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশের স্থায়ী উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের পর ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে মাফিয়াতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
তার মতে, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও সুসংহত গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
সফরের সময় স্পিকার তার শৈশবের বরিশাল শহরের স্মৃতিচারণাও করেন। তিনি বলেন, বরিশালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বরিশালে পৌঁছালে সার্কিট হাউসের সামনে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি ভোলার উদ্দেশে রওনা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই মন্তব্য রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণতন্ত্র নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, স্পিকারের বক্তব্যে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।