
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে The Wall Street Journal।
মার্কিন প্রশাসনের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব জাহাজের মধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ এবং কন্টেইনার ক্যারিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুট এখনও পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েনি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রণালী অতিক্রমের সময় বেশ কয়েকটি জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ রেখেছিল। এই সিস্টেমটি সাধারণত জাহাজের অবস্থান ও গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বন্ধ রাখার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তাদের গতিপথ গোপন রাখতে চেয়েছিল, যা পরিস্থিতির জটিলতা ও ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran এবং United States-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই সময় তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এলিট বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
এর পাশাপাশি ইরান ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়। গত ১১ এপ্রিল Islamabad-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন Mohammad Bagher Ghalibaf, আর মার্কিন পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন J. D. Vance। তবে এসব আলোচনায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের হয়নি বলে দুই পক্ষই জানিয়েছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানমুখী নৌ চলাচলের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাস্তবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং এখনও বাণিজ্যিক কার্যক্রম কিছুটা হলেও সচল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বিষয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই অনিশ্চয়তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন অবরোধ ও ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তবে পরিস্থিতি যে এখনও অস্থির, তা স্পষ্ট—এবং যেকোনো সময় এটি আরও জটিল আকার নিতে পারে।