
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়লেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসবে এবং তাদের খেলা যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে United States, Mexico এবং Canada—এই তিন দেশের যৌথ আয়োজনে। তবে আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের ইরানের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ইরান প্রথমদিকে বিশ্বকাপ বয়কট করার ইঙ্গিত দেয় এবং নিজেদের ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে দল পাঠানো নিয়ে আপত্তি জানায়।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি বলেন, “ইরান অবশ্যই এখানে (বিশ্বকাপে) আসবে। আমরা আশা করি তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, যা সবার জন্যই ভালো হবে।” তিনি আরও বলেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তাদের খেলোয়াড়রাও খেলতে আগ্রহী।
ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলা কখনোই রাজনীতির সঙ্গে মিশে যাওয়া উচিত নয়। বরং এটি দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তিনি বলেন, “যদি অন্য কেউ সেতুবন্ধ তৈরি ও তা ধরে রাখার বিশ্বাস না রাখে, তাহলে সেই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-ও এই ইস্যুতে মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। তিনি বলেন, ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হলেও তাদের নিজেদের নিরাপত্তা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার এই মন্তব্যের পর ইরান আরও জোরালোভাবে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানায়।
তবে ফিফা শুরু থেকেই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হবে। ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় New Zealand-এর বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে Belgium। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন তারা মুখোমুখি হবে Egypt-এর।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরে। তবে ফিফার অবস্থান পরিষ্কার—খেলাধুলা যেন রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকে এবং বিশ্বকাপ যেন বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে, নানা উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ফিফা। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক থাকে এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে ইরান কেমন পারফরম্যান্স দেখাতে পারে।