
পারস্য উপসাগরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এই ড্রোনটি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
মার্কিন নেভি সেফটি কমান্ডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৯ এপ্রিল MQ-4C Triton মডেলের একটি নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ড্রোনটি ঠিক কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি Pentagon।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির Naval Air Station Sigonella ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। এরপর এটি আকাশপথে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। হঠাৎ করেই এটি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণরূপে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ড্রোনটি প্রথমে ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠায়, যা সাধারণত ড্রোন বা বিমানের সঙ্গে ভূমিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকারীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর কিছু সময় পর ‘৭৭০০’ সংকেত পাঠানো শুরু হয়, যা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতির নির্দেশক।
শেষবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় থাকার সময় ড্রোনটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এরপরই সেটি সম্পূর্ণভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
এই ড্রোনটি তৈরি করেছে Northrop Grumman, যারা এটিকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত নজরদারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করে। ড্রোনটি একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম এবং বিশাল এলাকা জুড়ে নজরদারি চালাতে পারে।
এটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চমূল্য। প্রতিটি ট্রাইটন ড্রোনের দাম প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার, যা অনেক আধুনিক যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি। তুলনামূলকভাবে F-35 Lightning II যুদ্ধবিমানের দামের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ ব্যয়বহুল।
মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে এ ধরনের ড্রোনের সংখ্যা খুবই সীমিত—মাত্র ২০টির মতো। ফলে একটি ড্রোন হারানো সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের একটি ঘটনা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে এখন পর্যন্ত ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এটি যান্ত্রিক ত্রুটি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা অন্য কোনো বাহ্যিক কারণ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।