
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় চারটি জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নৌবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই ধরনের পরিস্থিতি মূলত মৌসুমি পরিবর্তনের সময় বেশি দেখা যায়। গ্রীষ্মের শুরুতে বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার তারতম্য এবং আর্দ্রতার কারণে কালবৈশাখী ধরনের ঝড় সৃষ্টি হয়, যা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বেশ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই ঝড়ের প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠের ফসল রক্ষা এবং ঘরের টিন বা দুর্বল কাঠামো শক্তভাবে বেঁধে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নৌপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে এই সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের অর্থ হলো—নদীবন্দরগুলোতে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে অথবা সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝড়ের তীব্রতা ও অনিয়মিততা বেড়েছে। ফলে আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিদ্যুৎ লাইন, গাছপালা এবং দুর্বল স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি অস্থায়ী হলেও এর প্রভাব স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র হতে পারে। তাই জনগণকে নিয়মিত আবহাওয়া আপডেট অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, আগামী কয়েক ঘণ্টা দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। তাই ব্যক্তি ও সামষ্টিক পর্যায়ে সতর্কতা অবলম্বন করলেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।