
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ কিছুটা কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৭৯৮.৮৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ১৮ মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাজারে এই ওঠানামা মূলত ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে স্থানান্তরের প্রবণতার কারণে হয়ে থাকে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জুন ডেলিভারির জন্য স্বর্ণ ফিউচার ০.৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৮২১.৩০ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা সাময়িকভাবে কমেছে। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয় এবং দাম নিচের দিকে নামে।
বিশ্ববাজারে সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে যান। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পেলে উল্টো প্রবণতা দেখা যায়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সরবরাহ উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পতন না হলেও সাময়িক ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে।
বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি দাম ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে কর, আমদানি ব্যয় ও ডলারের দামের কারণে অনেক সময় দেশের বাজারে ভিন্ন প্রবণতা দেখা যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের সরাসরি মিল সবসময় থাকে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ স্বর্ণের বাজারকে আরও কিছুদিন ওঠানামার মধ্যে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।