
রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন দূরপাল্লার বোমারু বিমান যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কটল্যান্ডের লসিমাউথ ঘাঁটি থেকে দুটি আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান এবং অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রাইজনর্টন ঘাঁটি থেকে একটি ভয়েজার রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিমানগুলো স্কটল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে শেটল্যান্ড অঞ্চলের আকাশে টহল দেয় এবং সন্দেহভাজন বিমানটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে।
প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, রুশ বিমানটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি। ফলে সরাসরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি এবং কিছু সময় পর টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটিতে ফিরে যায়।
এই ঘটনার পেছনে ন্যাটোর সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর আটলান্টিক ও যুক্তরাজ্যের কাছাকাছি এলাকায় রাশিয়ার নৌ ও আকাশপথের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশেষ করে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, গোয়েন্দা জাহাজ এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার যুক্তরাজ্যের নিকটবর্তী জলসীমায় নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে দুটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজকে রক্ষার জন্য একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়, যা ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নজরদারিতে ছিল।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী ব্যবহার করে এসব জাহাজ জব্দ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের প্রতিরক্ষা নীতিকে সমালোচনা করে বলেছে, সরকার শুধু কঠোর বক্তব্য দিচ্ছে, বাস্তব পদক্ষেপ কম।
সম্প্রতি আরও জানা যায়, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী উত্তর সাগরে একটি সম্ভাব্য রুশ সাবমেরিন অভিযান ব্যর্থ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানান, একটি রুশ পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাকুলা শ্রেণির সাবমেরিন এবং দুটি গোয়েন্দা জাহাজ এক মাস ধরে নজরদারিতে ছিল। এসব জাহাজকে সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা যায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্যের পাইপলাইন, ডেটা কেবল বা সমুদ্রতলের অবকাঠামোতে কোনো ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনাগুলো পশ্চিমা দেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই অংশ। যদিও বর্তমান ঘটনায় সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি, তবে আকাশ ও সমুদ্রসীমায় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রুশ বিমানের সম্ভাব্য উপস্থিতিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।