
দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। সর্বশেষ সিঙ্গাপুর থেকে আসা ১২ হাজার টন জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে জাহাজটি বন্দরে পৌঁছায় এবং এর মাধ্যমে দেশের উড়োজাহাজ জ্বালানির মজুদ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই জেট ফুয়েল সরবরাহ করেছে Indian Oil Corporation। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত এই জ্বালানির মজুদ গত কয়েকদিন ধরে সীমিত পর্যায়ে ছিল। নতুন চালান আসায় তা কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে, শুধু জেট ফুয়েলই নয়—ডিজেল সরবরাহ বাড়াতেও নেওয়া হয়েছে বড় উদ্যোগ। আজ রাতেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে আরও দুটি বড় তেলবাহী জাহাজ। এর মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে করে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর। অপরদিকে ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করছে ভিটল এশিয়া।
Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশই ডিজেল নির্ভর। পরিবহন, কৃষি, শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব খাতেই ডিজেলের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল থেকে আসে।
বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশের মোট ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এই বিশাল চাহিদা পূরণে মাসজুড়ে ধাপে ধাপে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাসের শুরুতেই ৩ এপ্রিল দু’টি জাহাজে করে প্রায় ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে এসেছে।
তবে চাহিদার চাপ এত বেশি যে, এই সরবরাহ পুরোপুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, যার দৈনিক গড় প্রায় ১১ হাজার ১৩৮ টন। এই হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।
১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুদ ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন করে আসা জাহাজগুলোর ডিজেল যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও ৪ থেকে ৫ দিন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এর মজুদ ছিল প্রায় ২২ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব। নতুন চালান আসায় সেই মজুদ আরও কিছুটা বেড়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে। তার মতে, ধারাবাহিকভাবে জাহাজ আসতে থাকলে চলতি মাসে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই আগাম পরিকল্পনা এবং মজুদ বাড়ানোর কৌশলই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।