
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে সরাসরি তেলের দামে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসি-তে আয়োজিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
ক্রিস রাইট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এরপর ধীরে ধীরে দাম কমতে শুরু করতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে, তাই দাম কমার প্রক্রিয়াও ধীরগতির হয়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ বা বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সংঘাত তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ কমে যায়। এর ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটিই মূল উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বাধা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি দূর হয়নি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমাধান না আসায় পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি অবরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দামে আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
ক্রিস রাইট আরও বলেন, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তার প্রভাবও তত বেশি হবে। সরবরাহ ব্যাহত হলে শুধু তেলের দামই বাড়ে না, বরং পরিবহন খরচ, উৎপাদন ব্যয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে শুরু করে। ফলে এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংঘাত শেষ হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তখন সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমার প্রবণতা দেখা যাবে। কিন্তু বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে কিছুটা সময় লাগবে এবং এর সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতেও বিলম্ব হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক মহল এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছে, যাতে এই সংকট দ্রুত নিরসন করা সম্ভব হয়।