
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব, আর এই উৎসবকে ঘিরে সারা দেশের মতো জয়পুরহাট-এও ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ।
সকালে শহরের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজ, মুখোশ, ব্যানার ও নানা রঙের আলপনায় ফুটে ওঠে বাংলা সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
শোভাযাত্রা শেষে কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল মামুন মিয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিনা মাহমুদা, উত্তম কুমার রায়, বিপুল কুমার বিশ্বাস, জেসমিন নাহার, মোহাইমেনা শারমীন, মাসুদ রানা প্রধান, গোলজার হোসেন এবং আনোয়ারুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতীক।
এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা জাসাসসহ মোট ১৯টি সংগঠন অংশগ্রহণ করে। সংগীত, নৃত্য ও কবিতার পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। লোকজ গান ও নাচের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় গ্রামীণ বাংলার চিত্র, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
এছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়। পান্তা, চিঁড়া-দইসহ নানা ধরনের গ্রামীণ খাবার উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। এসব আয়োজন বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
নববর্ষকে ঘিরে জয়পুরহাটে দুদিনব্যাপী বৈশাখী মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মিঠাই, মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্যের স্টল বসেছে। স্থানীয় কারিগরদের তৈরি নানা হস্তশিল্প পণ্যও প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
সব মিলিয়ে, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বৈশাখী মেলার সমন্বয়ে জয়পুরহাটে বাংলা নববর্ষ উদযাপন হয়ে উঠেছে এক আনন্দঘন ও বর্ণিল উৎসবে। এই আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।