
ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, আর এই প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং বাধামুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। যদিও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই প্রণালি ঘিরে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা শুরু হয়েছে, যা জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি। বেইজিং মনে করে, উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার পথেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়। সেই বৈঠকের ব্যর্থতার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের হুমকি দেন। তিনি ঘোষণা দেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব জাহাজের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরসহ দেশটির উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব ধরনের জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
চীন, যা বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ, এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটি সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার কথা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়। তাই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংযম ও পারস্পরিক বোঝাপড়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।