
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে হরমুজ প্রণালি-কে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যে সব জাহাজ ইরানকে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করবে, তাদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইরানি বন্দরগুলোতে যাওয়া-আসা করা সব ধরনের নৌযান চলাচল কার্যত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দর এড়িয়ে চলবে, তাদের নিরাপদ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে ট্রাম্পের টোল সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন নৌ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরান প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করে থাকে। এই জলপথটি বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।
এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প রুট ও অতিরিক্ত বীমা খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।