
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও ইরানে বিমান হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বৈঠকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান না আসায় ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক বিকল্প নিয়ে ভাবছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ইরানে সম্ভাব্য বিমান হামলা।
শুধু হামলাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসন আরও কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে অবরোধ আরোপ, যা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে White House BBC-কে জানায়, “সব ধরনের বিকল্পই এখন খোলা আছে।” অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ইরানের তথাকথিত ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অন্যান্য কৌশলগত বিকল্পও বিবেচনায় রাখছেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রেসিডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে যেকোনো দাবি এখনো অনুমাননির্ভর।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে। বিশেষ করে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এই সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে লেবানন, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলেও অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।