
আগামী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ ফ্লাইট। এবারের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
তিনি জানান, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকার হজ ব্যবস্থাপনাকে সফল ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা অস্থিতিশীল হলেও হজ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের ভিসা, ফ্লাইট শিডিউল, আবাসন এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষভাবে হাজীদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা সেবা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না।
হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইন্সকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে বাংলাদেশি মিশনগুলোও প্রস্তুত রয়েছে যাতে হজযাত্রীরা সেখানে পৌঁছে সহজেই সব সেবা পান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সময়মতো ফ্লাইট শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে করে শেষ মুহূর্তের চাপ কমে এবং হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পবিত্র হজ পালন করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া হজ ফ্লাইট বাংলাদেশের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশা করছে, এবারের হজ কার্যক্রম হবে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ।