
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাড়ি ও ব্যক্তিগত গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে মোট ১২০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফেরদাউস মোড়লের বাড়ি ও গুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে এ ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে ডিজিএফআই ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর একটি দল অংশ নেয়। অভিযানে চেয়ারম্যানের বাসভবন ও গুদাম থেকে ৬টি ব্যারেলে রাখা মোট ১২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি আরও ১৬টি খালি ব্যারেলও উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জ্বালানি তেল মজুদ করা হতে পারে বলে তারা সন্দেহ করলেও বিষয়টি নিশ্চিত ছিল না।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইস্তিয়াক আহমেদ অপু। তিনি ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করার অভিযোগে চেয়ারম্যান ফেরদাউস মোড়লকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যারা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার এই অভিযান জ্বালানি তেল মজুদ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।