
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সারা দেশে চলছে উৎসবের আমেজ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীরা। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন তারা।
বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কেউ তৈরি করছেন মাটির পুতুল, কেউ বানাচ্ছেন হাতি-ঘোড়া, আবার কেউ হাঁড়ি-পাতিল, মাছ, পাখি, নৌকা ও নানা ধরনের খেলনা সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল কর্মশালায়।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কারিগরেরা মাটির বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে গভীর মনোযোগে কাজ করছেন। তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দোয়েল, সিংহ, কচ্ছপ, হাঁস, টিয়া, ময়ূরসহ নানা ধরনের শিল্পসামগ্রী। বৈশাখ এলেই এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
মৃৎশিল্পীরা জানান, সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তারা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পান। বছরের অধিকাংশ সময়েই তাদের জীবন চলে টানাপোড়েনে। তবে নববর্ষের এই সময়টিকে ঘিরেই তাদের সবচেয়ে বড় আশা-ভরসা থাকে।
স্থানীয় কারিগর নরেশ চন্দ্র পাল বলেন, এখন আর মাটির জিনিসের আগের মতো কদর নেই। সারা বছর কষ্ট করে চলতে হয়। পূর্বপুরুষের পেশা হওয়ায় ইচ্ছে থাকলেও এই কাজ ছাড়তে পারেন না। বৈশাখের সময় মেলা বসলে কিছুটা ভালো আয় হয়।
অন্যদিকে মদির পাল জানান, মৃৎশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এঁটেল মাটির সংকট দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। ফলে লাভ কমে গেছে।
আরেক মৃৎশিল্পী রমেশ পাল বলেন, বাজারে এখন মাটির পণ্যের চাহিদা আগের মতো নেই। প্লাস্টিক পণ্যের আধিপত্যে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে একসময় মৃৎশিল্প হারিয়ে যেতে পারে।
সবকিছুর মাঝেও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন আখাউড়ার মৃৎশিল্পীরা। বৈশাখকে কেন্দ্র করে তাদের এই ব্যস্ততা শুধু আয়-রোজগারের সুযোগ নয়, বরং একটি পুরনো সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইও।