
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের জরুরি সেবা বিভাগ। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার।
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে ৭৮ জন ছিলেন জরুরি সেবা বিভাগের কর্মী, যারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, যাদের অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মিয়াদফার আরও জানান, হামলার ফলে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০০টিরও বেশি চিকিৎসা ইউনিট আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৭টি জরুরি সেবা কেন্দ্র ধ্বংস বা অচল হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা গ্রহণে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ৪৭টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টার এবং একটি সাগরভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্সও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনেক এলাকায় আহত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জরুরি বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করা উদ্ধারকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। হামলার সময় তারা আহত ও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছিলেন। এ ধরনের হামলা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সরাসরি আঘাত, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। অনেক জায়গায় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং জরুরি অপারেশন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাতে এই ধরনের ক্ষতি শুধু তাৎক্ষণিক সংকটই তৈরি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। জরুরি চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনাজনিত সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চিকিৎসা অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা হলে তা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করে তোলে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের স্বাস্থ্যখাতে এই ক্ষয়ক্ষতিকে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনরক্ষাকারী সেবাকে গভীর সংকটে ফেলেছে।