
দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম ঘোষণা করে, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে সর্বশেষ ৮ এপ্রিল সকালে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে সোনার দাম এখন পর্যন্ত ৫৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৩ বার কমেছে। গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যা দেশের স্বর্ণবাজারে উচ্চমাত্রার ওঠানামার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারেও সোনার দামে এই ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এতে একদিকে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ব্যবসায়ীরা বাজারে স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই মূল্যহ্রাস কিছুটা স্বস্তির হলেও বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে সোনার দাম এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হলে দেশের বাজারেও সোনার দামের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।