
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় Herat Province-এ একটি পিকনিক স্পটে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) Enjil District-এর দেহ মেহরি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC জানায়, ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে চারজন নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে পরে গুরুতর আহত আরও সাতজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাত সশস্ত্র হামলাকারীরা হঠাৎ করেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। শুক্রবার হওয়ায় পিকনিক স্পটটিতে মানুষের ভিড় বেশি ছিল, ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।
হেরাতের এক চিকিৎসক জানান, নিহতরা সবাই শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা একটি স্থানীয় মাজারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায় অতীতেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে, যা দেশটির সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা সাধারণত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
Taliban সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি জানান, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “দেহ মেহরি গ্রামে বেড়াতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি চালায়।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজন নারীও রয়েছেন।
আহতদের Herat Regional Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
Afghanistan Ministry of Interior-এর মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি জানান, হামলাস্থলটি একটি শিয়া অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাজার রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে নামাজ ও জিয়ারতের জন্য যান।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হামলার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আফগানিস্তানে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নতুন একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই হামলা। এখন নজর থাকবে, তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।