
হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে দেশের পাঁচটি বড় সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ থেকে শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম। রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, ছুটির দিন ছাড়া।
এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে Dhaka North City Corporation, Dhaka South City Corporation, Chattogram, Mymensingh এবং Barishal সিটি করপোরেশন এলাকায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শহরাঞ্চলে দ্রুত টিকাদানের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রথম ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এই এলাকাগুলো ১৮টি জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায় অবস্থিত, যেখানে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে, যা চলবে ১১ মে পর্যন্ত। এতে করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।
রবিবার সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Dr. M A Muhith।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাম একটি সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে সক্ষম। তাই সময়মতো টিকা গ্রহণই এর প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫৪টি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকায় প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৯ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী প্রায় ৪৭ হাজার ৬৬৮ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও প্রায় ৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুদের অবশ্যই টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। এতে করে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।
সব মিলিয়ে, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সময়মতো সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হলে হাম প্রতিরোধে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।