
পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ টানা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে চুক্তি ছাড়াই দেশে ফিরছেন JD Vance-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC জানায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে—এটাই ভালো দিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”
ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্য’ এবং নমনীয় মনোভাব নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে দুই পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্য দূর না হওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামাবাদ টকস’ নামে এই আলোচনাটি শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে টানা রবিবার পর্যন্ত চলে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব’ ইরানের কাছে উপস্থাপন করেছে। এখন দেখার বিষয়, Iran সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে কি না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা নির্ধারণ করেছি—কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি এবং কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।”
আলোচনার আগে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে ভ্যান্স বলেন, Shehbaz Sharif এবং দেশটির সেনাপ্রধান Asim Munir আলোচনায় সহায়তা করতে আন্তরিক ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, “আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তা পাকিস্তানের কারণে নয়।”
পারমাণবিক ইস্যুই এই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সেই সক্ষমতা অর্জনের দিকেও এগোবে না।
ভ্যান্স বলেন, “আমরা এমন একটি প্রতিশ্রুতি চাই, যা নিশ্চিত করবে তারা ভবিষ্যতেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটবে না। কিন্তু এখনো আমরা সেই প্রতিশ্রুতি দেখতে পাইনি।”
তিনি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস বা সীমিত করার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—তেহরান দীর্ঘমেয়াদে তাদের অবস্থান কতটা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ এখনো গভীর।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না আনলেও ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ আবার দুই দেশ আলোচনায় বসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।a