
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি-তে পোঁতা মাইন খুঁজে পেতে ব্যর্থ হচ্ছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। এতে করে প্রণালিটি আবারও নৌচলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান সমুদ্রপথে ছোট নৌকা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে মাইন পেতে থাকতে পারে। এই প্রণালি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কোথায় কোথায় মাইন বসানো হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র বা সুনির্দিষ্ট রেকর্ড ইরানের কাছে নেই। কিছু মাইন আবার স্থিরভাবে না বসিয়ে এমনভাবে রাখা হয়েছে, যা সমুদ্র স্রোতে সরে যেতে পারে। ফলে এখন সেগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় নৌযান চলাচল সীমিত করতে এই ধরনের মাইন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও সেগুলো সম্পূর্ণভাবে অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সতর্ক করে বলেছিল, প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো সমুদ্র মাইনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক রুট বা টোলভিত্তিক নৌপথ খোলা রাখার ইঙ্গিতও তারা দিয়েছিল, যাতে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুধু সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তারা চাইছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যিই মাইনগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা না যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও আরও ঘনীভূত করতে পারে।