
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক প্রতারণার ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জবাইকৃত বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস এবং একটি জীবিত অসুস্থ ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেনহাজুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার, বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৮ এপ্রিল আনারপুরা এলাকায় ঘোড়া জবাইয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৯টি জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি জীবিত রুগ্ন ঘোড়াও জব্দ করে সংশ্লিষ্ট প্রাণী সম্পদ বিভাগ-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য। এই তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন রুবেল (৩৯), সৌরভ (২১), সোহেল গাজী (২১) এবং ইয়াছিন আরাফাত (২১)।
পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতা রাজিব শিকদার (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গজারিয়ার আনারপুরা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চল থেকে রুগ্ন ও বয়স্ক ঘোড়া সংগ্রহ করত। এরপর সেগুলো জবাই করে মাংস ঢাকায় নিয়ে এসে সহযোগীদের মাধ্যমে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করত।
এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুধু ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণাই নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। কারণ, রুগ্ন ও অসুস্থ প্রাণীর মাংস মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণা রোধে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।