
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে Iran ও United States। তবে আলোচনার আগেই পারস্পরিক অবিশ্বাসের বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf।
পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ পৌঁছে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছায় ইরানের প্রতিনিধিদল। গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতিসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যেসব আলোচনা হয়েছে, সেগুলো প্রায়ই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা সব সময়ই হতাশাজনক ছিল।’ এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, নতুন আলোচনায় অংশ নিলেও ইরান খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চায়।
তবে গালিবাফ সম্পূর্ণ নেতিবাচক অবস্থানও নেননি। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘প্রকৃত ও সম্মানজনক চুক্তির’ জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে ইরানও ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে। অর্থাৎ, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance ইতোমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী Jared Kushner।
এই আলোচনায় মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমে আসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সহজে দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। গালিবাফের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে, Islamabad-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে এর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর।