
দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের পর অবশেষে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটছে Iran ও United States। দুই দেশের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকার দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন JD Vance। তার সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী Jared Kushner। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf।
ইরানি প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এই উপস্থিতি থেকেই বোঝা যায়, আলোচনাটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গালিবাফ বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থার অভাব রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো প্রায়ই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ইস্যু হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের কূটচাল বা প্রতারণা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নেবে। তার বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উত্তেজনার ইঙ্গিতও।
এই বৈঠকের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif দাবি করেছেন, তার সরকারের উদ্যোগেই দুই দেশ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে Israel-এর চলমান সামরিক কার্যক্রম এই আলোচনার ফলাফলকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu পাকিস্তানের কিছু দাবিকে প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, Islamabad এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আজকের এই বৈঠক শুধু দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কই নির্ধারণ করবে না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়বে।