
বরিশালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। Barishal-এর Sher-e-Bangla Medical College Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হলো মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজীবের দুই বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া এবং অন্যজন বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাকিব।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়াকে গত ৮ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন ৯ এপ্রিল বিকেলে সে মারা যায়। একই সময়ে ভর্তি হওয়া রাকিবও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে মোট চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই নিয়ে পুরো বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১০ জন শিশু ও রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৬৫ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ১,১৯০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে Measles শনাক্ত হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, ইতোমধ্যে ৬৯০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া না হলে জটিলতা বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে।
সব মিলিয়ে, বরিশালে হামের বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।