
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে United States ও Iran-এর মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখন ভেঙে পড়ার মুখে। এর প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে Lebanon-এর ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দুই সপ্তাহের জন্য কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পার হতেই নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সময়েও যদি এমন বড় আকারের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে শান্তি প্রক্রিয়া যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন United States ও Israel যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের এই অভিযানের মাধ্যমে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধের শুরুতেই Hezbollah ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সংঘাত আরও জটিল রূপ নেয় এবং লেবাননের অভ্যন্তরে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় Israel লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান ও স্থল হামলা জোরদার করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, ইসরায়েল দাবি করছে যে লেবাননের পরিস্থিতি এই চুক্তির আওতার বাইরে।
এই অবস্থানকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যখন Washington, D.C. ও তেহরান সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করছে, তখন ইসরায়েলের এই কৌশল যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী সপ্তাহে Washington, D.C.-এ ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে এই বৈঠকও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে Hezbollah এবং ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে লেবাননে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সাময়িক শান্তি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় আকারের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।