
রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত এলাকা Elephant Road-সংলগ্ন কাঁটাবন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
Fire Service and Civil Defence-এর কর্মকর্তারা জানান, ভবনের সংকীর্ণ সিঁড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবুও প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের জোন কমান্ডার মো. এনামুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও তদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তবুও বৈদ্যুতিক ত্রুটি এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত সতর্কতার কারণে সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পাশের একটি ভবন থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। ভিডিওতে একজন বাসিন্দাকে আতঙ্কিত কণ্ঠে পানি সরবরাহ চালুর জন্য আহ্বান জানাতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করতে দেখা যায় তাদের।
এই ধরনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দূর হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই তারা দ্রুত সাড়া দেয় এবং আধাঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে বোঝা যায়, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলোতে বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, কাঁটাবনের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও নগর জীবনে অগ্নি নিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া—এই দুইয়ের সমন্বয়ই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পারে।