
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিলটন ডিকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে এসেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার শ্যারন ক্লেডন এবং সিনেটর ডেবোরা ও’নিলসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। দীর্ঘ সময় পর এমন উচ্চপর্যায়ের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ খাতে।
সফরের আগে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুজান রাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এই খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।
নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এই সফরকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন আশা দেখা দিয়েছে। তারা চান এটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সফর না থেকে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো তুলে ধরার কার্যকর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার হোক।
প্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক আলমগীর হোসেন রুহেল উল্লেখ করেন, “অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এটি প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্ব না দিলে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
প্রবাসী তোফায়েল আহমদ বলেন, “সিডনিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সেবা এখনও প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি। পাসপোর্ট নবায়নে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। ডিজিটাল পদ্ধতি শক্তিশালী করলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রবাসী আবিদুর রহমান বলেন, “অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বাংলাদেশে আসে। তবে অর্থ পাঠাতে এখনও খরচ বেশি এবং সময় লাগে। দুই দেশের মধ্যে সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা চালু হলে এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”
প্রবাসীরা আরও দাবী করছেন দক্ষ কর্মীদের স্বীকৃতি সহজ করার জন্য পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি করা হোক, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়।
সচেতন মহল মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এটি বাস্তবভিত্তিক আলোচনায় রূপ নিলে শিক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তবে সমস্যাগুলো আলোচনায় গুরুত্ব না পেলে প্রবাসীদের প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলের এই সফর প্রবাসী কমিউনিটির জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে তাদের সমস্যা সমাধান, সুবিধা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়। সুতরাং, সফরের ফলাফল কেবল কূটনৈতিক নয়, প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।