
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের সেরেম্বান শহরে ২২ মার্চ দুপুর ১টার দিকে রনি হাওলাদার নামে এক বাংলাদেশিকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ হাজার রিঙ্গিত মুক্তিপণের জন্য অভিযুক্তরা তাকে জুতার দোকানের সামনে থেকে অপহরণ করেন।
মালয়েশিয়ার আদালতে ৯ এপ্রিল, বিচারক এন কানালেশ্বরীর সামনে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—কাজী মোস্তফা (৩৮), মারুফ হোসেন (২৮) এবং আবদুল আলিম (৩০)—এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযুক্তরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা আরও দুই পলাতক সহযোগীর সঙ্গে এই অপরাধ সংঘটিত করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে ১৯৬১ সালের অপহরণ আইনের ধারা ৩ এবং দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার ভিত্তিতে। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তরা ন্যূনতম ৩০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি বেত্রাঘাতের শাস্তিও ভোগ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরুল বাল্কিস জুনাইদি জামিনের বিরোধিতা করেন এবং জানান, এটি একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। তবে আদালত যদি বিশেষ বিবেচনা করে জামিন দেয়, তাহলে জনপ্রতি ৫০ হাজার রিঙ্গিত এবং স্থানীয় জামিনদারের শর্ত সংযুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী মোহম্মদ হানিফ হাসান জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তারা পরিবারের জন্য জিম্মি, তাই জামিন দেওয়া উচিত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং নির্দেশ দেন, অভিযুক্তরা তাদের পাসপোর্ট জমা রাখবে।
মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ মে ধার্য করা হয়েছে।
এই মামলাটি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে আদালতের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং জামিন নামঞ্জুর করা, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এটি মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা ও আইনি কাঠামোর প্রতি অভিবাসীদের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।