
রাজধানীতে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ ছবি আঁকা ও রচনা লিখন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (এপ্রিল) জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিশুরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজন করা এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা সুলতান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপিএসের সহকারী সমন্বয়কারী সিথি ঘোষ, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মনির, বিএনপিএসের ঢাকা পশ্চিম কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিন, উন্নয়নকর্মী সিএম মাহমুদা আকন্দ ও করিমুন্নেছা আকন্দ।
অনুষ্ঠানের বক্তারা জানান, শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে ছবি আঁকা ও রচনা লিখন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুরা পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব এবং তার ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে শেখে। অন্যদিকে, রচনা লিখনের মাধ্যমে তারা নারী ও কন্যাশিশুর ওপর নির্যাতন, তার প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরতে সক্ষম হয়।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিশুদের মধ্যে কল্পনাশক্তি এবং বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। শিশুদের সৃজনশীল কাজের প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য অনুষ্ঠানে এলাকার আটটি বিদ্যালয় থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। রচনা লিখনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সমান—২৪ জন। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রচনা লিখনে অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করেন। মোট ১৫ জন শিক্ষক শিক্ষিকা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং শিশুদের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন। তারা জানান, শিশুদের এই ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে তাদের চিন্তাশক্তি এবং সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
প্রতিযোগিতার ফলাফল আগামী ১৩ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে। সেইদিন প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে, যা শিশুদের আরও উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুরা কেবল মেধাবিকাশই নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক সচেতনতা অর্জনের সুযোগও পায়।
শিশুদের জন্য এই প্রকার কার্যক্রম স্থাপন করা হলে, তা তাদের শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সৃজনশীল ও সচেতন সমাজ গঠনে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে শিশুদের মেধা বিকাশে আরও বেশি করে ছবি আঁকা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার আহ্বানও তারা জানান।