
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। কিশোরগঞ্জের ব্যস্ততম কটিয়াদী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক, যেখানে কয়েক দিন আগেও যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন ছিল, এখন অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের মতো যানজট বা দীর্ঘ গাড়ির সারি নেই। সড়কে এখন প্রধানত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল করছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলনির্ভর যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মোটরসাইকেলও খুব কম চোখে পড়ছে, আর যেগুলো চলছে সেগুলোও বেশিরভাগই জরুরি প্রয়োজনে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ভেতরে কিছু যান চলাচল অব্যাহত থাকলেও দূরপাল্লার পরিবহন প্রায় বন্ধের মুখে। জ্বালানি সংকটের কারণে চালকরা বাধ্য হয়ে দূরের যাত্রা এড়িয়ে চলছেন।
বাইকচালক আজিজুল হক সৌরভ জানান, তেল পাওয়া এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাম্পে মাঝে মাঝে তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া তিনি বাইরে বের হচ্ছেন না।
একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানান ট্রাকচালক জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। এতে পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনে আশার আলো দেখছেন চালক ও সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই। তাদের আশা, এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে সংকট কাটতে শুরু করবে।
পথচারী আবুল বাশার বলেন, কয়েক দিন ধরেই সড়কে গাড়ির সংখ্যা কম। এতে চলাচল সহজ হলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়, বরং একটি সংকটের চিত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু পরিবহন খাত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির কারণ হতে পারে।
সার্বিকভাবে, কিশোরগঞ্জের এই সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।