
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের হিন্দি বিভাগের জন্য ১৫০০টির বেশি বই উপহার দিয়েছেন। বইগুলো শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি এবং হিন্দি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
উপহার দেওয়া বইগুলোর মধ্যে হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন গ্রন্থ, ভাষা শিক্ষার পেডাগজি এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট বই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই বই শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং হিন্দি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ঢাবি পরিদর্শনকালে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের উপরে আলাপচারিতা হয়। যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় প্রোগ্রাম এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আলোচনার মূল অংশ ছিল।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, সংগীত বিভাগ এবং নৃত্যকলা বিভাগ পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে উপহারকৃত বই শিক্ষার্থীদের ভাষা ও সাহিত্যিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে এবং গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও দৃঢ় করবে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, “শিক্ষা ও সংস্কৃতি দুই দেশের বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন। বই উপহার দিয়ে আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীরা হিন্দি ভাষা ও সাহিত্য আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবে। একই সঙ্গে এটি গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হবে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে এত সংখ্যক বই ঢাবিতে উপহার হিসেবে আসায় আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতার পথ আরও প্রসারিত করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন আরও সহযোগিতা কার্যক্রম আশা করা যায়। হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের জন্য বিশেষভাবে প্রণয়নকৃত এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের পঠনচর্চাকে সমৃদ্ধ করবে এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।
ঢাবি এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের এই যৌথ উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতাকে দৃঢ় করবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এই ধরণের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে।