
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তা’তে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। টার্মিনাল ৩-এর ৭ নম্বর গেটের উপরের ছাদ ভেঙে ডিপার্চার লাউঞ্জে প্রবল বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভাঙা ছাদের প্যানেল থেকে বৃষ্টি লাউঞ্জে প্রবল স্রোতে ঢুকছে। যাত্রীরা নিজেরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরতে থাকেন এবং তাদের মালামালও সঙ্গে নিয়ে নেন। তবে, বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার আগে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া চলছিল। এর প্রভাবে সেদিন সকালে বেশ কিছু ফ্লাইটের পথ পরিবর্তন করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি ইউদিস্টিয়াওয়ান জানিয়েছেন, পানির ঢল ও বিশৃঙ্খলা প্রায় পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল।
তবে বিমানবন্দর কর্মীরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও পার্কিং এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আগের মতো সচল রয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ফ্লাইট চলাচলে কোনো বড় প্রভাব পড়েনি।
সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ছাদের স্থায়িত্ব ও নির্মাণ মান পরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া বৃষ্টি ও ভেজা আবহাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সংক্ষেপে, জাকার্তা বিমানবন্দরে ছাদ ধস হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে যাত্রী এবং বিমানবন্দর উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা আবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দিল যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় বিমানবন্দরগুলোর প্রস্তুতি ও সতর্কতা অপরিহার্য।