
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইচ্ছা থাকলে তিনি ইরানের তেল ‘নিয়ে নিতে’ পারতেন। তবে দেশবাসীর চাহিদার কারণে যুদ্ধকে সমাপ্তির দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইয়াহু নিউজের বরাত দিয়ে দ্য পলিটিকো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউসে বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমার ইচ্ছা হলে আমি ইরানের তেল ধরে রাখতাম। কিন্তু আমেরিকান জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি। তাদের মনোবল ও সমর্থন বজায় রাখতে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, যদি তার ওপর নির্ভর করত, তিনি তেল দখল করতেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক লাভ বয়ে আনত।
ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যুদ্ধ বিরোধী মার্কিন নাগরিকদের ‘মূর্খ’ বলা যেতে পারে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিক ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা করছেন। এছাড়া অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, সাধারণত যুদ্ধ দীর্ঘসময় চলে, তবে মাত্র ৩৪ দিনে একটি শক্তিশালী দেশকে বড় ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে প্রশমন করা হয়েছে।
ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি দেশটি হরমুজ প্রণালি পুনরায় না খোলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেসামরিক অবকাঠামো যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে আক্রমণ করতে পারে। যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এ দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং তিনি এ বিষয়ে ‘উদ্বিগ্ন নন’। তার মতে, যুদ্ধাপরাধ হলো একটি ‘অসুস্থ’ দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে ট্রাম্প বারবার আভাস দিয়েছেন যে তার মূল উদ্দেশ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থন ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
সংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে তিনি ইরানের তেল দখল করতেন। তবে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী যুদ্ধকে দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।