
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নির্মাণাধীন মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র ‘স্টারগেট’-কে ইরান সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, ওরাকল এবং এনভিডিআইএর সহযোগিতায় নির্মাণাধীন এই কেন্দ্রকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান।
খবরে আরও বলা হয়েছে, ইরান মনে করছে, কেন্দ্রটির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিক্রিয়ার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এ ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা আবুধাবির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে চুপসাং করে আছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই হুমকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এখানে ওপেনএআই, ওরাকল এবং এনভিডিআইএর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন এআই সিস্টেম উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন এবং সাইবার সুরক্ষা খাতে মার্কিন শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা এই কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এই অবস্থায় নতুন কৌশলগত স্থাপনার প্রতি ইরানের সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ ধরনের হুমকি বাস্তবায়ন হলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, আবুধাবিতে নির্মাণাধীন মার্কিন ‘স্টারগেট’ এআই কেন্দ্রকে ইরান সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই এই হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।