
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ গাড়ির লাইন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য করেছেন, যা ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি কাল্পনিক দৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, একবার কল্পনা করুন—আপনি একটি গ্যাস স্টেশনের লাইনে টানা ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার একমাত্র আশা, কোনোভাবে কিছু জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও শেষ পর্যন্ত খালি ট্যাংক নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতার মানসিক ও শারীরিক কষ্ট কতটা তীব্র হতে পারে, সেটিই তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
তার এই বক্তব্য মূলত বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্রকে সামনে আনে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পাওয়ার হতাশা অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি করছে। প্রতিদিনের কর্মজীবন, জরুরি কাজ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন—সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ছে।
এই প্রসঙ্গে শফিকুল আলম অতীতের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কথাও স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে প্রায়ই প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে বিক্ষোভ দেখা যেত। অর্থাৎ, জনগণের অসন্তোষ প্রকাশের একটি সরাসরি এবং দৃশ্যমান ধারা তখন বিদ্যমান ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা করতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি তখনকার মতো অন্তর্বর্তী সরকার থাকত এবং এমন জ্বালানি সংকট দেখা দিত, তাহলে হয়তো জনগণের প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হতো। মানুষ সরাসরি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাত এবং যমুনার সামনে সমবেত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করত।
তার পোস্টের একটি অংশে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন—“ওই চল যমুনা যাই!! আজকে ইউনূস সরকারের...!!”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তখনকার প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জনগণ হয়তো সরাসরি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিক্ষোভে নামত।
এই মন্তব্য শুধু একটি ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং এটি বর্তমান ও অতীতের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। জ্বালানি সংকটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনগণের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে এবং সময়ভেদে সেই প্রতিক্রিয়ার ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হয়—সেই বিষয়টিও এখানে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, শফিকুল আলম এর এই পোস্টটি বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জনমত, ভোগান্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে নিয়ে এসেছে, যা নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।