
মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া জেট ফুয়েলের ওপর সারচার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তার্তো সোমবার (৬ এপ্রিল) জানান, জেট ফুয়েল সারচার্জ ১০ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ টিকিটের মূল্যে ৯ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্স এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং যুদ্ধের প্রভাবে রুট কমানো ও টিকিট মূল্যের বৃদ্ধি করছে। জাকার্তা থেকে এয়ারলাঙ্গা জানান, যাত্রীদের ওপর প্রভাব কমাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটে ১১ শতাংশ ভ্যাট বহন করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ প্রতি মাসে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (প্রায় ৭৬ মিলিয়ন ডলার)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি অনুযায়ী দুই মাস পর এই পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ইরানের ওপর চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পার্টামিনার তথ্য অনুযায়ী, জাকার্তা সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম মার্চ মাস থেকে ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকার নিশ্চিত করেছে যে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত পেট্রোল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভর্তুকি কমানো হবে না। এই ভর্তুকি গ্রাহকদের খরচের ৩০–৪০ শতাংশ বহন করে এবং দেশের বার্ষিক বাজেটের একটি বড় অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থমন্ত্রী পূর্বায়া যুধি সাদেওয়া জানান, কিছু সাশ্রয় ও খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি প্রায় ২.৯ শতাংশে রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, বছরের শেষ পর্যন্ত ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হবে না।
এয়ারলাঙ্গা আরও ঘোষণা করেন, বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানোর জন্য সরকার বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশের উপর আমদানি শুল্ক বাতিল করবে। জ্বালানি মজুদ সংরক্ষণের জন্য জাকার্তা সরকার গত মাসে জ্বালানি রেশনিং এবং সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার বিমান ভ্রমণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ অবস্থায় সরকার ও বিমান সংস্থাগুলো একসঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে যাত্রীদের উপর প্রভাব সীমিত থাকে এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সচল থাকে।