
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক মো. ইয়াছিন শেখ (৫৫) নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামের শেখ আ. বারির ছেলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ইয়াছিন শেখ পেট্রল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পাগলা-শ্যামনগর এলাকার আরা ফিলিং স্টেশনের দিকে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন।
ঘটনা ঘটেছে সকাল ১০টার দিকে। খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ইয়াছিন শেখকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, তিনি সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছেন।
এই দুর্ঘটনার সঙ্গে মিলিতভাবে, একই দিনে অন্যান্য সড়ক দুর্ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। সকাল ১১টার দিকে পিলজংগ এলাকায় একটি ক্রেন গাড়ি উল্টে পড়ে ইসরাফিল শেখ (২৭) আহত হয়েছেন। এছাড়া শ্যামবাগাত এলাকায় এক অজ্ঞাত বাইসাইকেল আরোহীও বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফকিরহাট ও আশেপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে সতর্কতা না অবলম্বনের কারণে দুর্ঘটনা প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহনের দ্রুতগতি ও পথচারীদের সচেতনতার অভাব সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মৃত ইয়াছিন শেখ এলাকার পরিচিত ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং বাসের পরিচয় ও চালকের খোঁজ চলছে। বাসচালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফকিরহাট ও আশেপাশের সড়কগুলোতে যানবাহনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক পরিদর্শন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে।