
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরবেলায় ঘটে গেছে একটি মারাত্মক ঘটনা। পাটগ্রাম উপজেলার রহমতপুর এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে ২৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ভুট্টাক্ষেতে গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাটছিলেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
মিজান শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল কিনা, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় নাগরিক শ্রী সাধন বর্মনকে আটক করেন। তার সঙ্গে দুটি গরুও ছিল। এই ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলে আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক জানান, আহত বাংলাদেশি যুবকের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার হাতে আটক ভারতীয় নাগরিককে হেফাজতে নিয়েছেন। এছাড়া দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি টহল জোরদার করেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাটগ্রাম সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, এমন ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সীমান্তের শান্তি বজায় রাখতে বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তবে বিজিবি পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।
পাটগ্রাম সীমান্তের এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।