
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে রেলওয়ে পুলিশ। জব্দ করা শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা, যা অর্ধকোটি টাকারও বেশি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এসব শাড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিলেট রেলওয়ের পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ অবৈধ চোরাচালান সংক্রান্ত একটি গোপন তথ্য পান। তার নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ আশুগঞ্জ স্টেশনে অবস্থান নেয় এবং ঢাকামুখী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালায়।
অভিযানের সময় ট্রেনটির মালবাহী বগি থেকে ১৮টি বস্তা ভর্তি ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি, কারণ তারা আগেই পালিয়ে যায়। পরে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় ভৈরব স্টেশনে নিয়ে এসব জব্দকৃত শাড়ি নামানো হয়।
উদ্ধার হওয়া শাড়িগুলোর মধ্যে ভারতীয় প্রাইম সিল্ক, কাতানসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১ হাজার ৮০ পিস শাড়ি রয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালানকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পোশাক ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এই সময় অবৈধভাবে পণ্য পরিবহনের প্রবণতা বেড়ে যায়।
উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঈদকে সামনে রেখে আমরা আরও সতর্ক রয়েছি।”
এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জব্দকৃত শাড়িগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনকে ব্যবহার করে চোরাচালানকারীরা পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করে থাকে। তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর ফলে এসব অবৈধ কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে।
সংক্ষেপে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলস্টেশনে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ১৮ বস্তা ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে রেলওয়ে পুলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। যদিও অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি, তবে চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।