
দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান থেকে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা Park Sun-won।
তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি। সাধারণত এমন সংঘাতে পিয়ংইয়ংয়ের ভূমিকা সক্রিয় থাকে বলে ধারণা করা হলেও এবার তাদের অবস্থান ভিন্ন।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, তার ছেলে Mojtaba Khamenei নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও পিয়ংইয়ং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তা পাঠায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই নীরবতা কাকতালীয় নয়, বরং একটি কৌশলগত অবস্থান। যেখানে Xi Jinping ও Vladimir Putin নিয়মিত বিবৃতি দিয়ে ইরান ইস্যুতে অবস্থান জানাচ্ছেন, সেখানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি তুলনামূলক ‘নরম’ বিবৃতি দিয়েছে।
এছাড়া লক্ষ্য করা গেছে, পিয়ংইয়ং সাম্প্রতিক সময়ে Donald Trump-এর সরাসরি সমালোচনা থেকেও বিরত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে উত্তর কোরিয়া ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খোলা রাখতে চাইছে।
গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য Xi Jinping ও Donald Trump-এর মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা সামনে রেখে পিয়ংইয়ং নিজেদের অবস্থান সংযত রাখছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিয়ংইয়ং যদি সত্যিই দূরত্ব তৈরি করে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। উত্তর কোরিয়া এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও সতর্কতা—দুটিই বাড়ছে।