
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম লিটন (২৬), তিনি রংপুর জেলার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, লিটন সাইনবোর্ড এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে স্থানীয় সাকিব গ্রুপের পূর্বের দ্বন্দ্ব ছিল। শনিবার নিহতের সঙ্গে ওই গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া সংঘটিত হয়। রবিবার রাতে লিটন যখন রতনপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন, তখন সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শ্বশুর আব্দুর রউফ জানান, তার মেয়ের জামাইকে হত্যা করা হয়েছে এবং ধারণা করছেন এটি লিটনের বন্ধুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের ফলাফল হতে পারে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহিববুল্লাহ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমিসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয়রা বলেন, সোনারগাঁ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নিহতের পরিবার শোকাহত এবং তারা চায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। স্থানীয় প্রশাসন এবং থানা ইতিমধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে তৎপর রয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা পুনরায় এড়াতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘাতপূর্ণ বিষয়ে সহিংসতা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।