
তীব্র জ্বালানি সংকটে দেশের উপকূলীয় মৎস্য খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলার জেলেরা ঈদের পর সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিলেও প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ফলে শত শত ট্রলার ঘাটে নোঙর করে পড়ে আছে, আর জেলেরা বসে বসেই দিন পার করছেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সামরাজ মাছ ঘাটে যেখানে প্রতিদিন মাছভর্তি ট্রলারের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে এখন বিরাজ করছে অচলাবস্থা। গত কয়েক দিনে জেলেরা বাজার-সওদা করেই সময় কাটাচ্ছেন, কিন্তু কবে নাগাদ জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নন।
জেলে ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডিজেল সংকটের কারণে বঙ্গোপসাগর এবং আশপাশের নদ-নদীতে মাছ আহরণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে শুধু জেলেই নয়, আড়তদার, পাইকার, শ্রমিকসহ পুরো মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের জীবিকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে সামনে রয়েছে টানা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, যা সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য প্রতি বছর কার্যকর করা হয়। জ্বালানি সংকটের ধাক্কা সামলানোর আগেই এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জেলেদের একজন মো. ছলাউদ্দিন জানান, একটি ট্রলার নিয়ে এক সপ্তাহ সাগরে থাকতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তিনি মাত্র ৩০০ লিটার নিয়ে গিয়ে দুই দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে তার ট্রলারটি নদীর ঘাটে নোঙর করা, আর ১৮ জন মাঝিমাল্লাসহ তাদের ভরণপোষণের দায়িত্বও তাকে বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় মৎস্য আড়ত মালিক সমবায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন যেখানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ হচ্ছে তার খুবই অল্প অংশ। ফলে অন্তত কয়েক হাজার জেলে পরিবার কার্যত বেকার হয়ে পড়েছে। কিছু ট্রলার দূরবর্তী এলাকা যেমন পাথরঘাটা বা কক্সবাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সীমিত আকারে মাছ ধরে ফিরছে, তবে স্থানীয়ভাবে প্রায় সব ট্রলারই বন্ধ।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, জ্বালানি সংকটে মাছ আহরণ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এমাদুল হোসেন জানিয়েছেন, সীমিত জ্বালানি যথাযথভাবে বিতরণের চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকট, সামনে নিষেধাজ্ঞা এবং বাড়তে থাকা দেনার চাপ—এই তিনের চাপে উপকূলের জেলেদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা।