
সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তপ্ত আলোচনার মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঘটনাকে একই সারিতে স্থান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দুটি ঘটনাকে এক কাতারে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কারণ ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অস্তিত্ব এবং জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা তার দল মেনে নিতে পারে না। বিশেষ করে ৭১ ও ২৪-কে একসঙ্গে বিবেচনার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান নিয়ে যাদের আপত্তি রয়েছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ সেই সংবিধানে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের বিধান ছিল। ইতিহাসের এই বাস্তবতা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংবিধান নিয়ে অতীতের একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া-এর ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে’ মন্তব্যটি ছিল একটি রূপক বা মেটাফোর, যা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল। সেই বক্তব্যের প্রতি সম্মান রেখেই ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের অঙ্গীকার রয়েছে বলেও তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের নির্ধারিত অনুচ্ছেদ অনুযায়ীই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান আলোচনাও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেষদিকে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংবিধানকে সুবিধামতো ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনমতো অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সকল পক্ষকে সংবিধানের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।