
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় এই সহিংস ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোস্তফাপুর এলাকার ইদ্রিস হাওলাদার ও সামচু সরদারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যায় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক ককটেলের বিস্ফোরণে পুরো এলাকা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ওঠে।
এই সহিংসতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে হামলা চালায়। এর মধ্যে শাহীন হাওলাদারের একটি মোবাইলের দোকান এবং রাকিবুল ইসলামের ‘ঢাকা বিরিয়ানি’ নামের দোকান উল্লেখযোগ্য। এসব দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যোগ দেন এবং যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের উপস্থিতিতে এলাকায় কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।
সংঘর্ষে আহত ছয়জনকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে